বিড়ম্বনা

এই পৃথিবী এক অনুভূতি ক্ষেত্র, যেখানে স্বপ্নকে স্বপ্নের মতো দেখা যায় না। জীবনকে যতই সহজ করে নিতে চেয়েছি জীবন ঠিক ততই কঠিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মন এবং মস্তিষ্ক কখনই একসাথে কাজ করেনা এর কারন আমার মন যা করতে চায় মস্তিষ্ক তা, মেনে নিতে চায়না। অনুভব করছি জীবনের এক বিড়ম্বনা।
আমি এই গল্পের একটি চরিত্র। আমি এই বাস্তব জগতের কোন জীব নই। আমি শুধুমাত্র লেখকের এক অনুভূতির অংশ। কিন্তু আমি একথা অনুভব করতে পারি যে এই পৃথিবীতে মানুষ খুবই অসহায়। এর মূল কারণ এখানে কেউ তার মন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারো জীবনের মূল সিদ্ধান্ত নেয় তাদের বাবা বা মা, কারো কারো ভাই বা বোন এবং কারো করো স্বামী বা স্ত্রি। আমি যতটুকু অনুভব করতে পারি তা হল যদি এই মানুষগুলো নিজের সিদ্ধান্ত নিজে মন এবং মস্তিষ্ক ব্যবহার করে নিতে পারত তাহলে এই পৃথিবীর সমান্তরাল চিত্র বদলে যেত।
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ অন্যের সিদ্ধান্তে সকল কাজ সম্পাদন করে। এর সবচেয়ে বড় কারন বা তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় হল আমাদের তো বেঁচে থাকতে হবে অন্যের উপর নির্ভর করে। যখন তাদের জন্ম হয় তখন তাদের নাম বা চরিত্র প্রকাশ কি হবে তা সিদ্ধান্ত নেয় তাদের বাবা বা মা। হ্যাঁ এটা মেনে নিতে হবে কারন তখন তো কেউই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় থাকে না। কিন্তু কিছুদিন পরে সেই ছেলে বা মেয়েটি কোন স্কুলে লেখাপড়া করবে তার সিদ্ধান্ত নেয় তার বাবা বা মা বা অন্য কেই। তারপর সে কি করবে, কোথায় থাকবে, কার সাথে থাকবে, কোথায় যাবে এসব সিদ্ধান্ত পরিবারই নেয়। তবুও আমি মনে করি এসব কিছু মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু সেই সন্তান বড় হয়ে কি করবে, কিভাবে তাঁর জীবন গঠন করবে সেই সিদ্ধান্ত অবশ্যই তার নেওয়া উচিৎ।
হ্যাঁ, বাবা বা মা তো সন্তানের ভালো হোক তাই চাচ্ছে কিন্তু এটা বাবা বা মায়ের সিদ্ধান্ত নয় যে সন্তন বড় হয়ে কি করবে বা কিভাবে জীবন জাপন করবেন বা কার সাথে থাকবেন। এগুলো তার নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটুকু অধিকার তো প্রত্যেক বাবা মায়ের উপর সন্তানের থাকবে। আমি এক চরিত্র হিসেবে প্রত্যেক বাবা মাকে বলতে চাই সন্তানকে যতটুকু ভালোবাসেন তা মন থেকে প্রকাশ করুন তাহলে দেখবেন এই পৃথিবীর সকল বিড়ম্বনা সমান্তরালে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
ভালো থাকুক মানুষ, ভালো থাকুক সকল মা-বাবা, ভালো থাকুক সকল সন্তান যারা তাদের পিতা-মাতাকে ভালোবাসে এবং ভালো থাকুক এই বিড়ম্বনার পৃথিবী।