"তোমার নূপুরের কথা"



A horror Love story
Written By Mehebub Hasan
সাল ২০১৭, ২১ মার্চ। নতুন চাকরি পেয়ে কুমিল্লায় আসলাম। থাকার জন্য তেমন কোন ভাল বাড়ি পাচ্ছিলাম না। তাই কোনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না করে এই বাড়িতে উঠলাম।
আমার নাম ইরফান বয়স সবে মাত্র ২১। আর বাবা-মা থাকে ঢাকায় আমার নিজের চাকরির জন্য আসলাম এখানে। যাই হোক এটাই আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
আমি যখন এই বাড়িতে প্রথম থাকা শুরু করেই সেই দিন ছিল শুক্রবার। নতুন বাড়িতে উঠলাম তাই সবকিছু ছিল এলোমেলো আরে সবকিছু ঠিক করতে রাত বেঁচে গেল প্রায় দশটা। এই বাড়িটি ছিল পাঁচ তলায় একটি বাড়ি আর এটা ছিল প্রায় ১০০ বছর পুরনো।
যাই হোক সবকিছু গোছগাছ করে প্রথম দিনই ছাদে উঠলাম ভাবলাম একটু ঘুরে আসি। আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলাম তারপর মনে হলো কেউ একজন আমার পাশের বাসার ছাদে হাঁটাহাঁটি করছে। কিন্তু আমার জানামতে এ বাসায় কারো থাকার কথা না।
কিছুক্ষণ তার দিকে লক্ষ্য করলাম এবং দেখলাম প্রায় ১৮ থেকে ১৯ বছরের একটি মেয়ে হবে যার পরনে ছিল একটি লাল শাড়ি এবং পাইছিল নুপুর। এবং তার জোরে জোরে হাঁটার জন্য তার পায়ের নুপুরের শব্দ আমার কানে ভেসে আসছিল।
রাত তখন প্রায় ১১ টা ৩০। সবকিছু ছিল অনেক নিস্তব্ধ। আরে নিস্তব্ধতার মাঝেই তার নুপুরের আওয়াজ কানে ভেসে আসছিল। কেন যেন নিজের মধ্যে মনে মনে ভয় জাগ্রত হল। কিছু কথা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমার জানা মতে এ বাসায় তো কেউ থাকেনা আর বাসা তো অনেক বছর পুরনো তাও আবার পুড়ে গেছে।
আর এ বাসার আশেপাশে তো কোন বাড়িও নেই সেখান থেকে কেউ একজন এসে এখানে উঠবে। তাহলে কে এই মেয়ে আর এত রাতে এখানে কি করছে। মনের মধ্যে শুধু এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল আর এরই মধ্যে হঠাৎ হারিয়ে গেল ছাদ থেকে সেই মেয়ের অস্তিত্ব।
বুঝতে পারলামনা এত অল্প সময়ে আর চোখের পলকের মধ্যে কোথায় সে হারিয়ে গেল। আর সে কারণেই মনের মধ্যে আর একটু ভয় সঞ্চিত হল।
বুঝতে পারছিলাম না আমার কি করা উচিত তাকে খোঁজা উচিত না নিজের ঘরে গিয়ে চুপ করে বসে থাকা উচিত।
তাই দ্বিতীয় কাজটি করলাম, তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে খাটে উঠে শুয়ে পরলাম। শুয়ে শুয়ে ভাবতে ছিলাম কেনই বা মেয়েটির মুখ দেখতে পারলাম না আর তিনি দেখতেই বা কেমন হবে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতে পারলাম না। সকালে উঠে কারো সাথে এ কথা শেয়ার করলাম না।
ভোর বেলাতেই নতুন কাজের লোক আসলো। প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক মহিলা। তিনি আমার সামনে দাড়িয়ে শুধু এক কথা বললেন, স্যার আপনার বন্ধু আমাকে পাঠিয়েছে আমি কি কাজ শুরু করতে পারি? আমি বললাম হ্যাঁ আপনি কাজ শুরু করেন এবং কাজ শেষ হলে আপনি চলে যাবেন। আমার অফিস শেষ হতে আজ রাত হবে তাই আজ আর আপনার সাথে দেখা হবে না আপনি চলে গেলেই ভালো হবে।
কিন্তু এসব কথার মাঝে একটা কথাই মন থেকে উঁকি মারছিল আর তা হল এই মহিলাটি এত শুদ্ধ কথা কি করে বলেন তিনি তো কাজের লোক আর দেখে এত শিক্ষিত কেন মনে হচ্ছে? ভাবলাম তাহলে তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করে লাভ নেই আমার বন্ধু যখন থেকে পাঠিয়েছে তার কাছে জিজ্ঞেস করবো।
আমি চুপচাপ অফিসে চলে গেলাম।

"তোমার নূপুরের কথা"
A horror Love story
Written By Mehebub Hasan
অফিসে গিয়ে কারো সাথে কোন কথা না বলে নিজের কাজে লেগে গেলাম। কিন্তু কাজে কেন জানি মন ভরছিল না কত রাতে কথাই বারবার মনে করছিলাম। তারপরও নিজের কাজ না থামিয়ে তা করতে থাকলাম কারণ এটা নতুন চাকরি ছিল হারালে অনেক প্রবলেমে পড়তাম।
তার মধ্যে হঠাৎ কাজের মহিলাকে কথা মনে পড়ে গেল আমার বন্ধুকে ফোন দিয়ে তা জিজ্ঞেস করতে হবে। সাথেসাথে শাহেদকে কল করলাম। আমাদের কথোপকথন,
আমিঃ কিরে শাহেদ কোথায় তুই?
শাহেদঃ এইতো ঢাকায় আছি। অফিসের একটা কাজে।
আমিঃ তুই যে কাজের লোকটিকে পাঠাইছো তার বাসা কোথায়?
শাহেদঃ তা আমি জানিনা। কিন্তু প্রবলেম নেই আমি জানি তাকে। ঢাকা থেকে এসে বলবো সবকিছু।
এরই মধ্যে একজন পিয়ন এসে বলল স্যার আপনাকে ডাকছেন। বললাম আসতেছি। গিয়ে স্যারের সাথে কথা বললাম। স্যার বলল আমি জানি তুমি ভালো কাজ জানো আর এখানে নতুন একটি মেয়ে এসেছে। যে কাজে তেমন দক্ষ নয়। তারপরও তাকে আমাদের কাজে নিতে হবে কারণ এটা উপর থেকে নির্দেশ।
আচ্ছা তুমি যদি একটা হেল্প করো তাহলে ভালো হয়। তুমি যদি মেয়েটিকে অফিসের কাজ সম্পর্কে সবকিছু জানাও এবং কিভাবে কি নিয়ম আছে তা বলে দাও তাহলে ভালো হয়। আমি উত্তরে বললাম হ্যাঁ স্যার প্রবলেম নেই আমি সবকিছু বুঝিয়ে দেবো তার যতদিন দরকার, আমি কাজটা করব।
স্যার বলল আচ্ছা ধন্যবাদ তাহলে মেয়েটি কাল থেকে কাজে আসবে আমি তার সাথে তোমাকে কাল পরিচয় করিয়ে দিব। তুমি এখন যেতে পারো। তবে আমি বললাম স্যার ধন্যবাদ তাহলে আমি আসি।
সব কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম। বাসায় গিয়ে কাজের লোকটির সাথে দেখা হলো না বুঝলাম যে সেদিন সন্ধ্যার আগেই চলে গেছে। তারপর নামাজ পরে খেতে বসলাম। খাবার খেয়ে যা বুঝলাম তাতে মনে মনে বলতে লাগলাম যে বন্ধু যাকে পাঠিয়েছে সে ভালো কাজে জানে।
যাইহোক খাবার শেষ করে একটু রেস্ট নিয়ে একটা বই হাতে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। বলছি ফন্ট পেজ দেখে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম কারণ এই বইটি আমি এখানে আনিনি কিন্তু কিভাবে আসলো তা বুঝতে পারছিনা। বইটির নাম ছিল এরকম ইচ্ছের "অভিশপ্ত মেয়ে"।
কিন্তু সবথেকে ঘাবড়ে দেওয়ার কারণ ছিল এই বইটি কে লিখেছেন তার কোন নাম এখানে ছিল না। এখানে কি হচ্ছিল তা আমার বোঝার সামর্থ্য ছিল না। বইটি খুলনায় মনে মনে ভাবছিলাম খারাপ কিছু হতে যাচ্ছ আমার সাথে। কারণ বইয়ের ২৮০ পাতার মধ্যে কোন শব্দ ছিলোনা।
ভয় পেয়ে বইটিকে হাত থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পরে আবার বইটিকে হাতে নিলাম। দেখলাম বইয়ের পাতাগুলো তে লেখাছিল। এবার মনে মনে ভাবলাম প্রথমবার হয়তো আমার দেখায় ভুল ছিল। মানে কোনো কিছু নিয়ে মানুষ ভয় পেলে নিজেকে যেভাবে সান্ত্বনা দেয় আর কি।
নিস্তব্ধ রাতে চারিদিক সুনসান, এই বাড়িতে কেউ থাকে না শুধুমাত্র আমি ছাড়া। এখানে আসার পর থেকে কোন একটা পশু পাখির সাথে দেখা হলো না। এরই মধ্যে কখন যে রাত এগারোটা বেজে গেল তা বুঝতে পারলাম না।
এরই মধ্যে কেউ একজন দরজায় আঘাত করলো। এবং এক অজানা কন্ঠে আমায় বলল দরজাটা খোলো না আমার অনেক বিপদ।
আমার মনুষত্ব বলছিল দরজাটা খোলা উচিত আর মন বলছিল এটা ঠিক হবে না।

"তোমার নূপুরের কথা"
A horror Love story
Written By Mehebub Hasan
দরজার শব্দ যেন কানে কানে এসে বলছে দরজাটা খুলে দে বাইরে বিপদ। হঠাৎ আর কোনো শব্দ শুনছিলাম না। ভাবলাম হয়তো সে চলে গেছে। এ কথা ভেবে দরজার দিকে আগালাম আর ভয়ে ভয়ে দরজাটা খুলে দেখি ঘোমটা দেয়া কোনো এক নারী আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। হার্টবিট বেরে গেলো। আর শরীর থরথর করে কাপছিলো।
ভয়ে ভয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কে আর এতো রাতে এখানে কি করছেন? কিন্তু তার কোনো উত্তর পাওয়া গেলোনা। তাকা একই তাকে একই প্রশ্ন আবার দ্বিতীয়বার করলাম। এবার তিনি ছোট করে উত্তর দিলেন। তার উত্তর ছিল এরকম-
আমি পাশের গ্রামের মেয়ে এখান থেকে আমি আমার মামার বাড়ি যাচ্ছিলাম কিন্তু পথে মধ্যে কেউ আমাকে তাড়া করছিল আর তার ভয়ে আমি এখানে এসেছি। আপনি যদি আমাকে এখানে থাকার অনুমতি দেন তাহলে আমার জন্য অনেক ভাল হবে। দয়া করে না বলবেন না।
তার এসব কথা শুনে একবার মনে হচ্ছিল তাকে বলব আপনার ঘুমটা উঠে আমাকে আপনার মুখমণ্ডল দেখান। আপনাকে না দেখে আমি আপনাকে থাকতে দিবো না। কিন্তু একথা তাকে বলার সাহস হলো না কারণ তিনি একজন মেয়ে ছিলেন এবং কোন মেয়েকে তার মুখমন্ডল দেখানোর জন্য বাধ্য করা উচিত নয়।
আমি আর কিছু না ভেবে থাকে ভিতরে আসতে বললাম। আমি তোকে জিজ্ঞেস করলাম আপনাকে চা দিব না কফি দিব। যেহেতু গ্রামের মেয়ে তাই হয়তো একটু লাজুক প্রকৃতির তাই তিনি বলেন আমার কিছু দরকার নেই। আমি আর কিছু না বলে সোজা রান্না ঘরে চলে গেলাম চা বানানোর জন্য।
চা নিয়ে আসলাম এবং যখন তাকে চা দিতে গেলাম তখন বুঝলাম যে এই মেয়ে শুধুমাত্র বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে। শুধুমাত্র এটা আমার অনুমান ছিল। এবং আমার এই অনুমানকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আমি তার সাথে আলাপ করতে চেয়েছিলাম।
আমাদের কথোপকথন ছিল এরকম-
আমিঃ আচ্ছা আপনার বাসা তাহলে পাশের গ্রামে?
তার উত্তরঃ হ্যাঁ।
আমিঃ আপনি মামা বাড়ি যাচ্ছিলেন?
তার উত্তরঃ হ্যাঁ।
আমিঃ আপনার নামটা বলবেন?
তার উত্তরঃ হ্যাঁ।
আমিঃ আচ্ছা কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আপনি আপনার মামা বাড়ি যাচ্ছেন না, আপনি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছেন।
তার উত্তরঃ আপনার এরকম কেন মনে হচ্ছে?
আমিঃ এমনি।
তার উত্তরঃ হ্যাঁ, বিয়ে থেকে পালিয়ে আসলাম।
আমিঃ আচ্ছা।
রাত প্রায় তিনটা। তখন হঠাৎ মনেহলো দরজার সামনে থেকে হাটাহাটি করছে।

"তোমার নূপুরের কথা"
A horror Love story
Written By Mehebub Hasan
আমি উঠে দরজা খুলতে গেলাম। মেয়েটি বলল এত রাতে দরজা খোলা ঠিক হবে না। আমিও ভাবলাম এত রাতে হয়তো দরজাটা খোলা একেবারে ঠিক হবে না। কোন কথা না বলে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলাম। এরইমধ্যে শুনতে পেলাম ফজরের আজান দিচ্ছে।
তাই আমি তাকে বসতে বলে রান্না ঘরের দিকে হাঁটতে লাগলাম সকালের নাস্তা তৈরি করার জন্য। ১০ মিনিট পরে রান্নাঘর থেকে এসে দেখি আমার রুমে কেউ নেই। আমি এক দৌড়ে দরজা খুলে বাইরের দিকে গিয়ে তাকে খুঁজতে লাগলাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। এখনো অন্ধকার আর তার মধ্যে চারোদিক ছিল ঘন কুয়াশায় ঘেরা তাই তাকে খুঁজে পাওয়াটা একেবারেই অসম্ভব ছিল।
কিছুই বুঝতে পারলাম না কেন এগুলো ঘটছে। বাইরে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে ঘরের ভিতরে আসলাম। মেয়েটি যেখানে বসে ছিল সেখানে তাকাতেই কোন একটি বস্তু আমার চোখের নজরে আসলো। কাছে গিয়ে দেখতে পেলাম এক পায়ের একটি নুপুর সেখানে পড়ে আছে।
নুপুরটি হাতে নিলাম এবং নুপুরের দিকে তাকাতেই কিছুক্ষণ পর মনে হল নুপুরটি আগে কখনো আমি দেখেছি। কিন্তু ভেবে পাচ্ছিলাম না কোথায় এই নূপুরটি আমি আগে দেখেছি। এসব কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ বুঝতে পারলাম রান্নাঘরে কিছু একটা পুড়ছে। আমি রান্না ঘরের দিকে হাঁটা মাত্রই দেখি সিলিন্ডার ব্লাস্ট হল আর আমি ছিটকে পড়ে গেলাম ঘরের বাহিরে।
সাথে সাথে বুঝতে পারলাম আমার এক পা এবং হাত পুড়ে গেছে এবং আমি অনেকটা কষ্ট অনুভব করছি। কিভাবে যে এত দ্রুত এসব ঘটে গেল তা বুঝতেই পারলাম না। আমার এখান থেকে হসপিটাল ছিল অনেক দূরে তাই কোনো কিছু না ভেবেই সাথে সাথে মটর সাইকেলটি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম হসপিটালের উদ্দেশ্যে।
এক হাত এবং এক পা পুড়ে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল চালানোটাও খুব কষ্টের ছিল তবুও কোন ভাবে চালিয়ে হসপিটাল পর্যন্ত গেলাম। মোটরসাইকেল থেকে নেমে হসপিটাল এর মধ্যে যাওয়া মাত্রই জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। প্রায় দুই ঘণ্টা পর যখন চোখ খুললাম তখন দেখলাম আমার এক হাত এবং এক পায়ে ব্যান্ডেজ করা ছিল।
২৪ ঘন্টা হসপিটালে থাকার পরে বাসায় ফিরে আসলাম। আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল প্রথমদিনে ছাদে উঠে সেই সময়ের কথা। তাই আজ আবার ইচ্ছে হলো রাতে ছাদে উঠে সেই রাতের জ্যোৎস্না দেখার। আজ রাতটা অনেক মিস তথ্য চারিদিকে ঘন অন্ধকার। হাত পায়ে ব্যথা ছিল তাই একটু কষ্ট করতেই হল ছাদে উঠবার জন্য।
যখন দুইটা শিড়ি উপরে উঠলাম তখনই মনে হলো উপর থেকে আমি পড়ে যাচ্ছি। হঠাৎ কেউ একজন পিছন থেকে আমাকে ধরলেন এবং আমাকে বললেন চলুন আপনাকে উপরে উঠতে সাহায্য করি।

"তোমার নূপুরের কথা"
A horror Love story
Written By Mehebub Hasan
কিছু সময়ের জন্য একবারও মনে আসেনি যে এই বাড়িতে শুধু আমি একাই থাকি। ছাদে উঠে বুঝতে পারলাম কেউ একজন আমাকে উপরে দিয়ে গেছে কিন্তু কীভাবে এবং কে তা বুঝতে পারলাম না। হঠাৎ পাশের ছাদ থেকে কেউ একজন মেয়ে কন্ঠে আমাকে ডাক দিলেন এবং বললেন আপনি এখানে কেন?
আমি কুয়াশার মধ্যে কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না আর তার জন্য কোন উত্তর দিলাম না। কিছুক্ষণ পর আবার আওয়াজ আসছিল আপনি কি এখানে একাই থাকেন?কিছুক্ষণ পর মনে সাহস নিয়ে বললাম আপনি সামনে এসে কথা বলুন।
হঠাৎ ঘন কুয়াশার মধ্যে থেকে কেউ একজন আমার দিকে আস্তে আস্তে আস্তে লাগল । কেউ যেন হেঁটে আসছিল এবং তার নুপুরের আওয়াজ আমি শুনতে পাচ্ছিলাম আমার মনে হলো এই শব্দ আমি আরো শুনেছি কয়েকবার। হঠাৎই কেও পিছন থেকে আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললো আমি এখানে।
সেকেন্ডের মধ্যে হৃদয়ে কম্পন বন্ধ হয়ে গেল বুঝতে পারলাম আমি কোথায় আছি এবং কি করতেছি কিন্তু আমার মাথায় কোনো কাজ করছিলোনা এগুলো কি হচ্ছে আমার সাথে। আমি পিছনে ফিরে তাকানোর সাহস পাচ্ছিলাম না। মনে মনে একটি কথাই বলতে লাগলেন কেন এবং কিভাবে হচ্ছে এগুলো।
সাথে সাথে আমার মনে বলা প্রশ্নগুলোর উত্তর পিছন থেকে আসলো। পিছন থেকে কেউ বলতে লাগল স্বপ্নকে কোনদিন স্বপ্নেও ভেবনা স্বপ্নই আমাদের তৈরি করে এবং স্বপ্নই আমাদের সবকিছু সৃষ্টি করে। স্বপ্নের মধ্যে আমরা সত্যকে খুঁজে পাই স্বপ্নের মধ্যে আমরা নিজেকে খুঁজে পাই। যা আমাদের সাধ্যের বাইরে তাই আমাদের স্বপ্ন। সবকিছু গল্প বলে ভুলে যেওনা সবকিছু গল্প নয় গল্প আমাদের সত্যকে খুঁজে বের হতে সাহায্য করে।
এসব কথা শুনে হঠাৎই পিছনের দিকে তাকালাম এখন দেখতে পেলাম কেউ নেই শুধু ঘন কুয়াশায় ঘেরা আমি।